‘দেশের স্বাধীনতার জন্য নয় মাস যুদ্ধ করেছি। ছুটে বেড়িয়েছি গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে। কত রকম যোদ্ধা দেখেছি। কিন্তু রাবেয়ার মতো যোদ্ধা কোথাও দেখিনি। এত মানুষের বিরুদ্ধে সে একা বিদ্রোহ করেছে। শহীদ ভাইকে দাফন করার জন্য নিজের প্রাণ দিয়েছে। তাই আজ রাবেয়াও একজন শহীদ যোদ্ধা।’ কথাগুলো রাবেয়া চলচ্চিত্রের একেবারে শেষ দৃশ্যে একজন কমান্ডারের। গতকাল শুক্রবার সকালে বলাকা প্রেক্ষাগৃহে সরকারি অনুদানে নির্মিত রাবেয়া ছবির উদ্বোধনী প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হলো। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্যসচিব জামিল ওসমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আ ন ম বদরুল আমিন এবং ইফতেখারুল আলম। রাবেয়া চলচ্চিত্রের পরিচালক তানভীর মোকাম্মেল বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানিরা আমাদের দেশের সাধারণ জনতাকে নির্বিচারে হত্যা করেছিল। তারা নিহত মানুষের দাফন পর্যন্ত করতে দেয়নি। কিন্তু সব ধর্ম ও সংস্কৃতিতে শত্রুর মৃতদেহকে পর্যন্ত সম্মান জানানোর নিয়ম আছে। অথচ পাকিস্তানিরা আমাদের শহীদদের সেই সুযোগ থেকেও বঞ্চিত করেছে। মূলত এ বিষয়টি নিয়েই একটি মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র তৈরির চেষ্টা করেছি।’ তথ্যসচিব জামিল ওসমান বলেন, ‘২০০৮ সালে সরকারি অনুদানে মোট তিনটি ছবি নির্মিত হয়েছে। প্রতিটি ছবিই মানের দিক থেকে উচ্চপর্যায়ের। এগুলো যেকোনো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিয়ে পুরস্কার আর সম্মান বয়ে আনার যোগ্যতা রাখে।’

প্রকাশতি : দৈনিক প্রথম আলো, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০০৮.