শাহাদাৎ হোসেন লিটন পরিচালিত ‘তোমাকে বউ বানাবো’ ছবির কাহিনীতে নতুনত্ব খোঁজার চেষ্টা বৃথা। কারণ এ ছবির কাহিনীকার আব্দুল্লাহ জহির বাবু। আজকাল না-কি স্ক্রিপ্ট রাইটাররা ছবির স্পটে বসেই সংলাপ লেখেন। ‘তোমাকে বউ বানাবো’ ছবির সংলাপ শুনে তেমনটাই অনুমান হলো। বলাই বাহুল্য, ছবির সংলাপও বাবুরই লেখা। আর ছবির পরিচালকের কথা বলতে গেলে বলবো ক্যামেরার পেছনে দাঁড়িয়ে থেকে শুধুমাত্র অ্যাকশন-কাট বলাই যদি পরিচালকের কাজ হয় তবে শাহাদাৎ হোসেন লিটন ‘দক্ষতার’ সঙ্গেই তার দায়িত্ব সম্পন্ন করেছেন। শাকিবের চরিত্রটা কেমন যেন ম্যাড়মেড়ে। একটুও দর্শক আকর্ষণ করার মতো নয়। শাকিব অভিনয়টাও করেছেন গতানুগতিক। দৃশ্য থেকে দৃশ্যান্তরে তার ছোট চুল-বড় চুলের খেলা আর কতো ছবিতে দেখতে হবে জানি না। ‘ডিটেলস’ বলে যে চলচ্চিত্রের অভিধানে একটা শব্দ আছে তা বোধ হয় বিস্মৃত হয়েছেন শাকিব খান। শাকিবের সাথে পাল্লা দিয়ে গৎবাধা অভিনয় করেছেন শাবনূর। শাকিবের সাথে তাকে চরম বেমানান মনে হয়েছে। ছবিতে শাকিব যেন হঠাৎ করেই নিজের বয়সটাকে চার-পাঁচ বছর কমিয়ে ফেলেছেন। ফলে শাকিবের পাশে স্থূল স্বাস্থ্যের শাবনূরকে দৃষ্টিকটু লেগেছে। স্কার্ট, প্যান্ট কিংবা শাড়ি কোনোটাতেই শাবনূরকে মানায়নি। এসব পোশাক পরে নর্তন-কুর্দনের বয়স তার আরো আগেই পেরিয়ে গেছে। এখন থেকে বয়স অনুযায়ী চরিত্র বেছে নিলেই পড়ন্ত ক্যারিয়ার রক্ষা করতে পারবেন শাবনূর। যেমনটা অনেক আগে থেকেই সচেতনভাবে একটু-আধটু করে আসছেন মৌসুমী। এখনো ষোল বছরের তরুণীর মতো মুখ ভেংচি কেটে অস্পষ্টভাবে সংলাপ বলা, জিহ্বা নাড়িয়ে ‘ওয়াও’ বলে কারো গায়ের উপর পড়ে যাওয়া, ইঙ্গিতপূর্ণভাবে চোখ ঘুরিয়ে কথা বলা- এসবের কোনোটাই যে আর তার বয়স কিংবা ইমেজের সাথে খাপ খায় না তা শাবনূরের বুঝতে হবে। তার মতো মেধাবী অভিনেত্রীর উচিত রোমান্টিক নায়িকার খোলস ছেড়ে বেরিয়ে চরিত্র-প্রধান ছবিতে অভিনয় করা। এটাই সময়ের দাবী, সেই সঙ্গে দর্শকেরও।
প্রকাশতি : দৈনিক ইত্তেফাক, সোমবার, ১৫ ডসিম্বের ২০০৮.






