ছবির নাম শুনে সহজেই আঁচ করা যায় পরিচালক রকিবুল আলম রকিব তার হিট ছবি ‘রিক্সাওয়ালার প্রেম’-এর মায়া কাটাতে পারেননি। আর এটাই ছিল পরিচালক হিসেবে তার সবচেয়ে বড় ভুল। ‘রিক্সাওয়ালার প্রেম’-এর ছায়া থেকে বেড়িয়ে আসলে ‘চাকরের প্রেম’ অনায়াসে হতে পারতো উপভোগ্য। ‘রিক্সাওয়ালার প্রেম’-ছবির প্রাণ ছিলেন প্রয়াত নায়ক মান্না। ‘চাকরের প্রেম’ও তাকে ভেবেই লেখা। মান্নার অকাল মৃত্যুর পর আমিন খান ছবির নায়ক হিসেবে অন্তর্ভূক্ত হোন। স্বাভাবিকভাবেই দর্শকরা মান্নার সঙ্গে আমিন খানের তুলনা করেছেন। কিন্তু এই তুলনার কোনো মানে হয় না, বলাই বাহুল্য। তারপরও বলা উচিত আমিন খান বেশ ভালভাবেই আকবর চরিত্রে উৎরে গেছেন। ছবির একটি দৃশ্যেও মান্নাকে অনুকরণের ব্যর্থ চেষ্টা করেননি আমিন খান- এ কারণে তিনি সাধুবাদ পাবেন। তিনি তার স্টাইলেই অভিনয় করে গেছেন। গড়পরতা ছবির চেয়ে তিনি এতে ভাল করেছেন। আমিন খানের ভক্তরা চরম হতাশ হয়েছেন তার কণ্ঠে অন্য লোকের ডাবিং শুনে। ‘চাকরের প্রেম’ ছবিতে সবচেয়ে বড় পাওনা অহনা। নবাগতা এই নায়িকাটির অভিনয় ছিল পুরোপুরি আড়ষ্টতাহীন। ধনীর বেপরোয়া অহংকারী কন্যা থেকে হন্যে হয়ে চাকরি খোঁজা তরুণীতে অহনার রূপান্তর দর্শক মনে বেশ দাগ কাটে। ‘চাকরের প্রেম’ ছবিতে অভিষেকের পর নায়িকা হিসেবে অহনার ব্যস্ততা বেড়ে গেলে খুব অবাক হবো না। সিনেমা হলে উপস্থিত দর্শকদের জন্য চমক ছিল মান্না-অহনা অভিনীত একটি গান। এই গানটির শুটিং করে গিয়েছিলেন মান্না। ছবির কাহিনীর সাথে একাত্ম করে গানটি ছবিতে জুড়ে দেয়া হয়েছে। মান্নার প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখেই বলছি- নিতান্তই কৈশোর-উত্তীর্ণ হালকা-পাতলা অহনাকে মান্নার সাথে বেমানান মনে হয়েছে। কিন্তু পুরো ছবিতে হাটুর বয়সী অহনার সাথে আমিন খানকে এক মুহূর্তের জন্যও বেমানান মনে হয়নি। বয়সটাকে যেন কোনো এক যাদুমন্ত্র বলে লুকিয়ে রেখেছিলেন আমিন খান। রোমান্টিক জুটির খরায় আমিন-অহনা নির্মাতাদের নতুন ভাবনার খোরাক হতে পারেন। ছবিতে আমিন-অহনা ছাড়াও আরো দুই জোড়া নায়ক-নায়িকা ছিল। এরমধ্যে রাকিব খান (রকিবুল আলম রকিব) ও সাগরিকার কাহিনীতে ভূমিকা থাকলেও আরেক জোড়া নায়ক-নায়িকাকে দেখা গেছে স্রেফ এক গানে। এই গানটি কি না রাখলেই চলতো না? রাকিব-সাগরিকার গানটিরইবা কী প্রয়োজন ছিল? আলমগীর-কবরীর চরিত্রের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি পরিচালক। হাতেগোনা কিছু দৃশ্যে তারা ছবির শোভা-বর্ধন করেছেন মাত্র। বিরতির পর হঠাৎ করেই ছবির গতি বেড়ে যায়। অহনা-আলমগীরের বাড়ি থেকে বিতাড়িত হওয়া, আমিন খানের গায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়া-এই ঘটনাগুলো এতো দ্রুত ঘটছিল দর্শকের পক্ষে তাল মেলানো কঠিন হয়ে পড়ছিল। মিশার ফুলবল দলের সাথে আমিন খানের ফকির ফুটবল দলের খেলার দৃশ্যগুলো আরো জমজমাট হতে পারতো। অহনা আমিন খানের উদারতায় তার প্রেমে পড়ে গেলেও অহনার প্রতি আমিন খানের অনুরাগ জন্মেছে কি-না ছবির শেষ দৃশ্যেও এই প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। ‘চাকরের প্রেম’ দেখে দর্শককে সিনেমা হল থেকে বের হতে হয়েছে এমন অনেক উত্তর ছাড়াই। সেই সব প্রশ্ন আর নাইবা করলাম।
প্রকাশতি : দৈনিক ইত্তেফাক, বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০০৮.






