দর্শকমাত্রই আশা করেন তিনি যে ছবিটি দেখতে হলে ঢুকেছেন তাতে কিছু না কিছু নতুনত্ব থাকবেই। গাঁটের পয়সা খরচ করে নতুন বোতলে পুরনো মদ দর্শক কখনোই দেখতে চান না। রূদ্ধশ্বাস ব্যস্ততার এই সময়ে আড়াই ঘণ্টা সময় নেহায়েৎ ফেলনা নয়। দর্শক পুরনো জিনিষ দেখে সময় নষ্ট করতে চাইবেন না এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু পরিচালক সাফি ইকবাল বোধ হয় মরণপণ করেছেন, দর্শককে নতুন কিছু দেওয়া যাবে না। হয়তো ভেবেছেন নিয়মিত বস্তাপঁচা ছবি দেখে অভ্যস্ত বাংলা ছবির দর্শকদের তাতে বদহজম হয়ে যেতে পারে। পরিচালকদ্বয়ের চিন্তা মহৎ (!)- এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু ‘অভিসার’ সিনেমা হলে বুধবার সন্ধ্যার শো’তে উপস্থিত থাকলে দর্শকদের গালি-গালাজ তারাও হজম করতে পারতেন কিনা সন্দেহ রয়েছে। সেই মাতৃ-হত্যার প্রতিশোধ, এক ভাই পুলিশ আরেক ভাই অপরাধী, নাম বদলে ভিলেনের ছদ্মবেশ, ভিলেন কর্তৃক নায়িকার মৃত্যু, সবশেষে ভিলেনকে মেরে অপরাধী নায়কের মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়া- কোথাও এতোটুকু নতুনত্ব নেই। ‘বড় ভাই জিন্দাবাদ’ ছবির কাহিনীকার আব্দুল্লাহ জহির বাবু। টাইটেলে এই ভদ্রলোকের নাম দেখলেই এখন হতাশ লাগে। সপ্তাহে সপ্তাহে একই কাহিনীকারের ছবি দেখতে দেখতে দর্শক এখন ক্লান্ত। নির্মাতাদের কাছে আমাদের সবিনয় অনুরোধ প্লিজ এই মানুষটাকে এবার অব্যাহতি দিন। বাবু প্রসঙ্গ থাক। দেখা যাক বাবুর কাহিনী পরিচালনা করতে গিয়ে কী অনর্থ করেছেন সাফি ইকবাল। সন্ত্রাসীরা আক্রমণ করলে রুবেল নিজের কোমর থেকে পিস্তল বের করে তাদের দিকে গুলি ছোড়ে। সন্ত্রাসীদের গুলিতে তাদের দলের একজন মারা গেলে রুবেলকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। আদালত রুবেলকে খুনের মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো অবৈধ অস্ত্র রাখার দায়ে রুবেলের সাজা হলো না কেন? সেকি পরবর্তীতে তাকে পুলিশ বানানোর জন্য? দেশের পুলিশ প্রশাসন কী নাকে তেল দিয়ে এমন ঘুমই দিয়েছে যে, রুবেলের মতো চিহ্নিত সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে তারা কোনো প্রমাণই সংগ্রহ করতে পারে না উল্টো তাকেই ডিপার্টমেন্টে চাকরি দেয়। বড় ভাই রুবেলের জন্য আমিন খান জান দিয়ে দিতে পারে। অথচ পুলিশ ধরে নিয়ে যাওয়ার পর রুবেলের ব্যাপারে আমিন খান এতোটাই বেখবর হয়ে যায় যে রুবেল পুলিশ হয়ে ফিরে আসার পরই কেবল তার চৈতন্যেদয় হয়- ‘তার একজন বড় ভাই আছে’। এরকম অসংখ্য গোঁজামিল দিয়ে ‘বড় ভাই জিন্দাবাদ’-এর চিত্রনাট্য সাজিয়েছেন সাফি ইকবাল। ছবিতে দু’জন নায়িকার অন্তর্ভূক্তি অহেতুক বলে ঠেকেছে। সিনথিয়ার চেয়ে নিপুণের চরিত্রের ব্যপ্তি বেশি হলেও নিপুণকে নিতান্তই জড়পদার্থ মনে হয়েছে। এই নায়িকাটির অভিনয় পুরোপুরি অভিব্যক্তি- শূন্য। ছবিতে অভিনেতা বলতে ছিলেন একজনই-আলীরাজ। ষোল-সতেরো বছর আগে রুবেলের ছোট ভাইয়ের চরিত্রে বহু ছবিতে অভিনয় করেছেন আলীরাজ। সেই তিনিই রুবেলের বাবার চরিত্রে অনায়াসে মানিয়ে গেছেন। চলচ্চিত্রে চরিত্রাভিনেতার সংকটে এখন নির্মাতাদের বড় ভরসার নাম আলীরাজ। অবশ্য রুবেল-আমিন খান দু’জনের কেউ-ই খারাপ অভিনয় করেননি। চিত্রনাট্য অনুযায়ী দুই ভাইয়ের মধ্যে হৃদ্যতাও ফুঁটিয়ে তুলতে পেরেছেন তারা। কিন্তু পরিচালকদ্বয়ের আন্তরিকতার অভাবে শেষ পর্যন্ত ‘বড় ভাই জিন্দাবাদ’ জমে উঠতে পারলো না।
প্রকাশতি : দৈনিক ইত্তেফাক, শুক্রবার, ৭ নভেম্বর ২০০৮.






